এই বিশ্ব
ব্রহ্মাণ্ডের সব থেকে বড় রহস্য হল মানব শরীর।
আধুনিক
চিকিৎসা বিজ্ঞান যত উন্নত হচ্ছে ততই আমাদের শরীরের বহু রহস্য উন্মচন হচ্ছে।
যতোই নতুন
নতুন তথ্য উঠে আসছে ততই নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
কিন্তু এর
উত্তর দেওয়ার কেও নেই।
উত্তর
বিজ্ঞানকেই যুক্তি সহ খুঁজে বের করতে হয়।
কেমন করে
এতো গুলো নমনীয় অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এক সাথে মিলে মিশে শত বৎসর ধরে কাজ করে চলেছে?
কি ভাবে হৃদয়
যন্ত্রটি অনবরত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে চলেছে ?
একটু ভেবে
দেখুন, নাক দিয়ে প্রতি মিনেটে আমারা ১৮ বার শ্বাস নি, সারা শরীরে রক্ত প্রতি
মিনিটে তিন বার খাদ্য, অক্সিজেন, জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়, আমরা
যা দেখি, শুনি, অনুভব করি তা সবই স্নায়ুর মধ্যমে মস্তিষ্কে পৌছায় আবার মস্তিষ্ক
থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া ফিরে আসে, এই সব কাজ কতো গতিতে হয় জানেন ?
৩৯০ ফিট
প্রতি সেকেন্ডে, যা আলোর গতির প্রায় ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ।
এমন আরও কতো
আশ্চর্য ঘটনা আমাদের শরীরে মধ্য ঘটে চলেছে আমরা কিছুই জানতে পারি না বা তার টেরও
পায় না।
আপনার শরীর
আপনার চিন্তা ভাবনা থেকে অনেক বেশি সচেতন।
কেমন করে
জানা নেই কিন্তু এই শরীর অনেক অনেক বেশি উন্নত।
এর সমান
প্রযুক্তি না আবিষ্কার হয়েছে না কখনো হবে।
এই শরীরের মধ্যে এমন সুরক্ষা ব্যাবস্থা তৈরি আছে যা
এই পৃথিবীর কোন শক্তি এই সুরক্ষা ব্যাবস্থাকে ভাঙ্গতে পারে না।
যদি ঠিকঠাক নিয়ম করে চলা যায় তবে কোন রকম অসুখ বিসুখ
হওয়া অসম্ভব ব্যাপার। ১০০ বছরের গ্যারেন্টি নিয়ে আমরা এই পৃথিবীতে জন্মায়।
আমাদের
সমাজেই এমন লোক খুঁজে পেয়ে যাবেন যারা সারাটা জীবন সুস্থ ভাবেই জীবন কাটিয়ে
দিয়েছে।
আপনার
শরীরের সুরক্ষা ব্যাবস্থা একমাত্র আপনি নিজেই ভাঙ্গাতে পারেন, আর কেও না।
মানে, আপনার
খাওয়া দাওয়া, উঠা বসা, চিন্তা ভাবনা, ইচ্ছা অনিচ্ছা ইত্যাদিতে যদি ভুল ভ্রান্তি
আসতে শুরু করে তখনই শরীরের এই সুরক্ষা ব্যাবস্থা ভাঙতে শুরু করে।
আর তখনই
আমাদের বিভিন্ন রোগ ব্যাধি আরাম্ভ হয়।
বর্তমানে বহু
বিজ্ঞানী দাবি করেন যে আমাদের আধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা থেকে প্রাচীন কালের
চিকিৎসা ব্যাবস্থা অনেক বেশি উন্নত ছিল।
তারা কোন
রকম অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়াই শরীরকে অনেক বেশি ভালো করে জানতেন।
তারা জানতেন
কি করে কোন রকম ওষুধ ছাড়াই শরীরকে ঠিক করা যায়।
তাদের
ব্যবহৃত এমন অনেক পদ্ধতি নতুন করে আবিষ্কার হচ্ছে।
এদের মধ্যে
একটি পদ্ধতি হল অ্যাকুপ্রেশার।
১৯১৭ সালে ডঃ উইলিয়াম ফিজগারেল্ড এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে নতুন ভাবে আমদের কাছে তুলে ধরেন।
"তিনি এই নিয়ে দীর্ঘ দিন গবেষণার পরে জানান, অ্যাকুপ্রেশার
মানব জাতির কাছে প্রকৃতির এক বিশেষ আশীর্বাদ স্বরূপ। আমাদের শরীরের এটি আর একটি অন্যতম রহস্য।"
এই চিকিৎসা
পদ্ধতির দ্বারা আপনি শুধু রোগ নিরাময়ই করতে পারবেন না, এর দ্বারা আপনি অতি সহজেই
বহু রোগ নির্ণয় ও শরীরকে সব দিনই সুস্থ রাখতে পারবেন।
জেনে
আশ্চর্য হবেন যে লক্ষ লক্ষ টাকা দামের মেশিন দ্বারা যেই সব রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়
না বা ভুল হয় তা অ্যাকুপ্রেশার দ্বারা একেবারে সঠিক ভাবে নির্ণয় করা যায়।
একে শিখা ও
অভ্যাস করা খুবই সহজ। এর কোন সাইড ইফেক্ট নেই।
আসলে এটি একটি স্পর্শ চিকিৎসা পদ্ধতি।
কেবল স্পর্শ করে বা চাপ দিয়ে রোগ নির্ণয় ও রোগ
নিরাময় দুটোই এক সাথে করা যায়।
অ্যাকুপ্রেশারের
ভাষায় বলা হয় আমাদের হাতের ও পায়ের তল আসলে আমাদের শরীরের আয়না বিশেষ।
যেখানে আপনি
আপনার শরীরের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন।
এমন একটি
প্রতিবিম্ব বা শরীরের ম্যাপ নীচে দেওয়া হল।
এই সমস্ত জায়গা
গুলিতে স্পর্শ বা চাপ দিয়ে ম্যাপ অনুযায়ী সেই সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলিকে প্রভাবিত
করা যায়।
যদি এই
সমস্ত জায়গাগুলিতে কোন রকম ব্যাথা অনুভব করে তবে বুঝবেন সেখানে কোন সমস্যা তৈরি
হয়েছে।
যদি এমন হয়
তবে সেই জায়গাতেই বেশ কয়েক দিন হালকা মালিশ করতে থাকুন, দেখবেন কয়েক দিন পরে সেই
যায়গায় আর কোন রকম ব্যাথা নেই।
তখন জানবেন
আপনার যা রোগ ছিল বা তৈরি হচ্ছিল তা দূর হয়ে গেছে।
এই ভাবে
আপনি নিজে থেকেই চিকিৎসা করে বহু রোগ মুক্ত হতে পারবেন।
জেনে অবাক
হবে এই সামান্য চিকিৎসা পদ্ধতি দ্বারা ক্যানসার, টিউমার, ডায়াবেটিক, হার্ট ব্লকেজ
ইত্যাদি ভয়ঙ্কর সব রোগ গুলিকে ঠিক করে তুলা যায়।
বর্তমানে এর
গুরুত্ব ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন গ্রহণ করেছে।
চিন, জাপান,
কোরিয়া ইত্যাদি দেশগুলির সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের পাঠক্রমে এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে
রাখা হয়েছে।
আপনার সমস্ত
রোগের ওষুধ আপনার নিজের হতেই রয়েছে ।
একে জানতে হবে, একে যতো জানতে পারবেন
আপনার স্বাস্থ্য ততই আপনার হাতের মুঠই থাকবে।
এই কোর্সটির উদ্দেশ্য আপনার স্বাস্থ্য যে আপনার হাতের মুঠতেই আছে তা অবগত
করা।
একবার এই কোর্সটি করে দেখুন কতো
সহজ মনে হবে সুস্থ্ হয়ে বেঁচে থাকা।
একজন বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে, যার কাম্য হল সুস্বাস্থ্য, যাতে আমাদের জন্মগত
অধিকার, এই চিকিৎসা পদ্ধতি একান্তচিত্তে
ও নিয়মিতভাবে অন্তত ১৫ দিন ধরে প্রয়োগ করুন এবং এর চমৎকার ও বিস্ময়কর ফলাফল প্রত্যক্ষ
করুন।
দেখবেন আপনি নিজেই নিজের চিকিৎসক হয়ে গেছেন এবং নিজের স্বাস্থ্যকে নিজের
হাতের মুঠই রাখতে পারছেন।


