২০১৭ সালে নভেম্বার মাসে একটা বড় ঘটনার সাক্ষী হয়।
একটা পেসেন্ট পেয়েছিলাম, উনার নাম ছিল
– রমা দাস, বয়স- ৪৫ বছর।
উনার লাংসে
বা ফুসফুসে এক ধরণের ক্যানসার হয়েছিল।
লাংসের বায়ু থলি গুলো শুকিয়ে যাচ্ছিল।
যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় interstitial
lung disease (ILD)।
এই রোগটি ধরা পেরতেই প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগে গেছিল।
তার আগে উনার শুধু অনবরত কাশি হতো।
কোলকাতার আরজিকর হাসপাতালে বহুদিন চিকিৎসা চালিয়েও কোন রাজাল্ট
আসেনি।
শুধু সেখানেই না আরও অনেক জায়গাতে উনার চিকিৎসা চলে।
কিন্তু কোথাও কোন উন্নতি আসেনি।
না এলোপ্যাথি, না হোমিওপ্যাথি, না আয়ুর্বেদিক
কোথাও লক্ষণীয় কিছু দেখা যায়নি।
কোলকাতার আরজিকর হাসপাতালে উনার আসল রোগটি ধরা পরে এবং সেখানে
বহুদিন ধরে চিকিৎসা চলতে থাকে।
২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে উনাকে সেখানে শ্বাস কষ্টের জন্য এমারজেন্সিতে
ভর্তি করা হয়েছিল।
কিন্তু বহু দিন রেখেও যখন কোন উন্নতি হচ্ছিল না তখন সেখানকার
ডাক্তারবাবুরা পেসেন্টকে বাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কারন, এই রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো কোন
নির্দিষ্ট ওষুধ বা থেরাপি উনাদের কাছে ছিলনা।
উনারা প্রায় স্পট ভাষায়
বলেছিলেন, তিন মাসের বেশি এই পেসেন্ট
বাঁচবে না।
পেসেন্টি সম্পর্কে আমার নিজের মাসি হন।
তাই, আমি ঠিক করি উনার চিকিৎসা আমি নিজেই করব।
কারন তখন অ্যাকুপ্রেশারের উপর আমার অগাধ আস্থা চলে এসেছিল আর
তাছাড়াও উনাদের কাছে দ্বিতীয় কোন অপশনই ছিল না।
তাই, কোলকাতা থেকে ফেরার পরে মাসি আমার বাড়িতেই
ছিলেন।
আমার পুরো বিশ্বাস ছিল, অ্যাকুপ্রেশার দিয়ে কাজ হবেই।
আর সত্যিই তাই হয়েছিল।
আমি প্রতিদিন ফুসফুসের মেইন পেয়েন্টের উপর ১৫ মিনিট ধরে চিকিৎসা
চালিয়ে যেতে থাকি, এছাড়া আরও কিছু পেয়েন্ট ছিল আর ছিল কয়েকটা
ব্যায়াম ও প্রাণায়াম।
মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই
অনেক পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
উনার শ্বাস কষ্টের আর কোন সমস্যাই ছিল না।
খাওয়া দাওয়া, পায়খানা-বাথরুমের কোন সমস্যাই হচ্ছিল না।
শরীর স্বাস্থ্য বেশ উন্নত হতে শুরু করেছিল।
মনে হচ্ছিল যেন আর কোন সমস্যাই নেই।
সেই সময়ের একটা ছবি (যা উপরে দেওয়া হয়েছে) আছে সেটা দেখে কি বলতে পারেন উনার মধ্যে ক্যানসার নামক কোন অসুখ আছে
?
একমাস উনি আমার বাড়িতে ছিলেন সেখানে সব থেকে ভালো ট্রিটমেন্ট
হয়েছিল।
এর পরে ডিসেম্বরের শেষের দিকে উনি নিজের বাড়ি চলে যান।
সেখানে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ট্রিটমেন্ট চলে।
যখন উনি ঠিক হতে লাগলেন তখন উনারা মনে করলেন আর এই সবের দরকার
কি ?
এই সব করতে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায় আর প্রতিদিন আমার ওখানে যাওয়া
উনাদের পছন্দ হচ্ছিল না।
অতিরিক্ত খরচার একটা ভয় হচ্ছিল।
তাই উনারা এই থেরাপিটা বাদ দিয়ে দিলেন।
আমার হাজার বালা সত্ত্বেও উনারা সময়ের দোহাই দিয়ে এই সবকিছু
বাদ দিলেন আর এই থেরাপির পরিবর্তে একজন খুব বড় লাংসের ডাক্তারের কাছে নতুন করে চিকিৎসা
শুরু করলেন।
কোলকাতার ডাক্তার বাবুরা যেখানে তিন মাসের মধ্যেই উনার মারা যাওয়ারই কথা বলেছিলেন, সেখানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে বেঁচে আছেন সেটা তাদের নজরেই আসল না।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মাসের মাঝের দিক থেকে এই থেরাপি সম্পূর্ণ
বন্ধ হয়েগেলো।
তারপরে উনাদের সাথে আর কোন যোগাযোগ হয়নি।
এরপরে যতটুকু খোঁজ পেতাম জানতে পারতাম মাসি বেশ ভালোই আছেন।
না আমার, না আমার বিনা পয়সার চিকিৎসার কোন দরকার
ছিল।
উনি ভালোই ছিলেন।
কিন্তু আমি জানতাম উনি কতো দিন ভালো থাকবেন।
মাত্র একমাস পেরতে না পেরতেই সবকিছু উল্টা হয়ে যায়।
যতদিন আমার চিকিৎসার প্রভাব ছিল উনি ঠিকই ছিলেন কিন্তু সেটা পার হতেই উনার অবস্থা ক্রমশই অবনতি হতে শুরু করে।
ঠিক মার্চ মাসের শেষের দিকে, হঠাৎ মেসোর ফোন আসে,
উনি বলেন মাসির অবস্থা খুবই খারাপ, মাসি একবার
আমার সাথে দেখা করতে চাইছেন।
গিয়ে দেখতে পায়, উনার পুরো শরীর প্রচণ্ড ফুলে
গেছে, হাতে পায়ে প্রচুর জল জমেছে।
উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা ছাড়া কোন রাস্তাই আর বাকি ছিল না।
মালদা হাসপাতালে এই জাতিয় পেসেন্টকে ট্রিটমেন্ট করার মতো কোন
কিছু ছিলনা বললেই চলে।
শুধু অক্সিজেন আর সাধারণ কিছু ঔষধ চলে।
আর একটা বিরাট বড় ভুল করে বাসেন সেখানকার ডাক্তারবাবুরা, পেসেন্টের রক্তে হিমগ্লবিন কম দেখতে পাওয়ায় উনাকে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন।
রক্ত দেওয়ার কিছু ক্ষণের
মাধ্যেই উনার অবস্থা মারাত্মক হতে শুরু করে।
উনাকে আবার কোলকাতায় রেফার করেন।
এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত উনার ট্রিটমেন্ট কোলকাতাতেই হয়েছিল।
প্রচুর খরচার পরেও কিছুই আর হয়নি।
১০ জুন ২০১৮ সালে এতো
কিছু চেষ্টার পরেও উনাকে আর বাঁচানো যায়নি, উনি মারা যান।
মাসি যাওয়ার অনেক দিন পরে, দেড়ি হলেও সকলে স্বীকার
করেছিলেন, উনার পাঁচ-ছয় বছরের অসুস্থ কালীন
সময়ে সব থেকে ভালো সময় গেছিল সেই এক মাসটি যখন উনি আমার বাড়িতে আমার ট্রিটমেন্টের মধ্যে
ছিলেন।
আমার সমস্ত থেরাপির মধ্যে অ্যাকুপ্রেশার পেয়েন্টের গুরুত্ব
সব থেকে বেশি ছিল।
লাংস মেরিডিয়ান চ্যানেলের প্রায় সমস্ত পেয়ন্ট ব্যাবহার করে
দেখেছিলাম, তাতে সবথেকে উন্নতি বেশি হয়েছিল।
পায়ের রিফ্লেক্স পয়েন্টের প্রভাবও বেশ ভালো ছিল।
মোটামুটি ৭ থেকে ১০টি পেয়েন্টের উপর প্রতিদিন চিকিৎসা চালিয়ে
যাচ্ছিলাম আর তাতেই চোখে পড়ার মতো উন্নতি আসছিল।
উনি যদি ৬ মাস এই ভাবেই
চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারতেন তবে আমার সম্পূর্ণ
বিশ্বাস ছিল উনার লাংসের ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় হতে পারত।
উনার রোগ প্রায় ৫০% ঠিক হয়েগেছিল।
আর ৫০%'এর জন্য উনারা অপেক্ষা করতে পারলেন না।
আমি আপনাদের আগেই বলেছিলাম এই চিকিৎসা বিজ্ঞানের আগে বা পরে
কিছু নেই,
আপনি যেকোন থেরাপি বা
যেকোন চিকিৎসা বিজ্ঞান শিখুন না কেন, যদি অ্যাকু পয়েন্টে সম্বন্ধে না জানেন তবে সব
কিছু ব্যর্থ।
এই চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে না জানতে পারলে চিকিৎসা জগতের
একটা বিরাট অংশ আপনার কাছে অজানা থেকে যাবে।
অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি যদি অ্যাকুপ্রেশার চিকিৎসাকেও চালানো
যায় তবে রুগীর ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
আপনি জেনে অবাক হবেন
যে অ্যাকুপ্রেশারই হল একমাত্র
চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগ প্রতিরোধ করে ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কেন বা কীভাবে হয় বা
এর সত্যতা কতোটা ?
সেই সমস্ত কিছু জানতে
এই কোর্সটি অবশ্যই করুন।
কাল নই আজ থেকেই এটি
শুরু করুন।
ধন্যবাদ।


